বর্তমান সময়ে জনপ্রিয়তার তুঙ্গে টেপ টেনিস ক্রিকেট।ফেইসবুকের বদৌলতে,আধুনিক প্রযুক্তি এবং ফেইসবুক লাইভের মাধ্যমে এখন দেশের আনাচে কানাচের ক্রিকেটের ম্যাচ লাইভ দেখা যায়।ব্যাট হাতে চার ছয়ের ফুলঝুড়ি আর বল হাতে গতির ঝড় তুলে মাঠ মাতাচ্ছেন সব ক্রিকেটাররা।অসংখ্যা খেলোয়ারদের খেলা এখন আমরা দেখছি ঘরে বসেই যাদের অনেকেই টেপ টেনিসের তারকা।কিন্তু কিভাবে পেয়েছেন এই তারকাখ্যাতি আর কিভাবে হয়েছেন টেপ টেনিসের তারকা? হ্যাঁ,আপনিও চাইলে পারেন টেপ টেনিসের একজন তারকা ক্রিকেটার হতে।কিন্তু কিভাবে?
▪️কিভাবে হবেন টেপ টেনিসের তারকা?
টেপ টেনিসের তারকা হয়ে উঠার জন্য আমার দৃষ্টিতে যে কয়টা জিনিস প্রয়োজন।
১) রেগুলার খেলাধুলা করা।
২) পারফরমেন্স (মোস্ট ইম্পরটেন্ট)
৩) ফেইসবুককে কাজে লাগানো।
৪) ভালো পারফরমেন্সগুলোর ভালো কোয়ালিটি সম্পন্ন ভিডিও & বেস্ট এডিটিং।
৫) নিজের এলাকা/বৃত্তের বাইরে থেকে বের হয়ে আসা।
৬) সকল টেপ টেনিসের ক্রিকেটারদের সাথে ভালো সম্পর্ক।
৭) নিয়মিত ছোট/বড় টুর্নামেন্টে খেলা।
৮) নিয়মিত অনুশীলন।
৯) ফিটনেস ঠিক রাখা।
এছাড়াও আরো নানান টুকটাক জিনিস তো আছেই।
১) রেগুলার খেলাধুলা করা:-
যদি আপনি ক্রিকেটপ্রেমী হয়ে থাকেন বোলার হোন বা ব্যাটার তাহলে অবশ্যই নিয়মিত খেলাধুলায় থাকতে হবে।ক্রিকেটে ১ দিন খেলে ৫ দিন ঘুমালে কাজ হবে না। রেগুলার খেলাধুলায় এক্টিভ থাকলে অবশ্যই আপনার ব্যাটিং,বোলিং দুটোরই উন্নতি হবে।
▪️২) রেগুলার পারফরমেন্স:-
ক্রিকেটে পারফরমেন্স অনেক গুরুত্বপূর্ণ। যদি ভালো প্লেয়ার হতে চান তো পারফরমেন্স এবং ধারাবাহিকতা দুটোই ইম্পরটেন্ট।আপনি যদি ছোট টুর্নামেন্ট/বড় টুর্নামেন্টে ভালো প্রতিপক্ষের বিপক্ষে নিজের ব্যাটিং/বোলিংয়ের প্রতিভাটাকে তুলে ধরতে পারেন অবশ্যই সেটা সবার নজর কাড়বে।এই ক্ষেত্রে সবার চোখ থাকে বড় টুর্নামেন্টকে ঘিরে।এইসব বড় মঞ্চে/বড় টুর্নামেন্টে যে সকল প্লেয়ার ভালো করে তাদের উপর সবার নজর থাকে।
৩) ফেইসবুককে কাজে লাগানো:-
ফেইসবুকের ভালোদিক খারাপ দিক দুটোই আছে।ফেইসবুক মানেই আপনার ভালালাগার মূহুর্তগুলো আপনি সবার মাঝে ছড়িয়ে দিবেন।কেউ ভালো গান করে,কেউ ভালো গিটার বাজার,কেউ ভালো নাচে,কেউ ভালো কবিতা আবৃতি করে সবার নানান প্রতিভা আছে আর যদি আপনি ভালো খেলেন সেটাও একটা প্রতিভা।তাই উচিৎ ভাললাগা এবং আপনার প্রতিভাটাকে সবার সামনে উপস্থাপন করা।আপনি নিজেই দেখুন আপনি অনেক প্লেয়ারদেরই চিনেন ফেইসবুকের মারফতে সরাসরি কখনো দেখেনও নি।সুতরাং ফেইসবুকের যথাযত ব্যবহার করতে হবে।
৪) ভালো পারফরমেন্সগুলোর ভালো কোয়ালিটি সম্পন্ন ভিডিও & বেস্ট এডিটিং:-
এবার আসুন খেলার ভিডিও।ভিডিওতো অনেকেই করে কিন্তু শুধু ভিডিও করলেই হবে না এগুলো মানসম্মত হতে হবে।আপনি যখন জাগো মিডিয়াতে লাইভ দেখেন অথবা কুলাউড়া ক্রীড়াঙ্গন পরিবার বা ক্রিকেটার রফি পেইজে।দেখে কি ভালো লাগে না? অবশ্যই লাগে কারণ ক্লিয়ার ফুটেজ আর চমৎকার ধারাভাষ্য যা আপনার খেলা দেখার আগ্রহকে বাড়ায়।পক্ষান্তরে কারো আইডি থেকে লাইভ দেখে এতোটা মজা আপনি পাবেন না।তাই খেলার ভিডিও যখন করবেন সেটা একেবারে ক্লিয়ার হতে হবে আর সুন্দর একটা এঙ্গেল থেকে ভিডিও করতে হবে।অতপর সবকয়টা ভিডিওকে এডিট করে এক করে সুন্দর মিউজিক এ্যাড করতে পারেন।সুন্দর এডিটিংও একটা ফ্যাক্ট। (তবে মিউজিক এ্যাড করার ক্ষেত্রে কপিরাইট ফ্রী মিউজিক এ্যাড করবেন আর একটু এনার্জিটিক,থ্রিলিং মিউজিক হলে ভালো হয়।তাই বলে রবীন্দ্র সংগীত যদি এ্যাড করেন বা বাংলা গান এগুলো ভিডিও'র সাথে মানানসই হবে না।তাই আপনার সাবজেক্টের সাথে মিল রেখেই করবেন)
৫) নিজের এলাকা/বৃত্তের বাইরে থেকে বের হয়ে আসা:-
অনেক ক্রিকেটার আছেন যারা ভালো খেলেন।কিন্তু নিজের এলাকা বা একটা নির্দিষ্ট বৃত্তের মধ্যে থেকে বের হোন না।এখন একটা কোণে বসে থাকার যুগ না।নিজেকে সবার মাঝে ছড়িতে দেয়ার যুগ।তাই নিজের বৃত্ত থেকে বের হয়ে আসতে হবে।
৬) সকল টেপ টেনিসের ক্রিকেটারদের সাথে ভালো সম্পর্ক:-
এটা আবার প্যানেলের কথা বলছি না।প্যানেলের বাইরেও কিছু ভালো মানুষ আছেন তাদের সাথে সম্পর্ক রাখবেন।অনেক ক্রিকেটার আছেন তাদের সাথে যখন একি টিমে খেলবেন সু-সম্পর্ক বজায় রাখবেন।যদিও যার যার প্লেয়ার ছাড়া কেউ প্লেয়ায় নেয় না।তাই নিজের পারফরমেন্স দিয়েই নজর কাড়বেন।ভালো পারফর্মার হলে অনেকেই আপনাকে বিভিন্ন টুর্নামেন্টে সাজেক্ট করবে।
৭) নিয়মিত ছোট/বড় টুর্নামেন্ট খেলা: -
যতো টুর্নামেন্ট হয় ছোট/বড় সবগুলোতে খেলার চেষ্টা করবেন।টুর্নামেন্টে খেললে আলাদা একটা মজাও আছে আর সেই সাথে ভালো করলে পরিচিতিও লাভ করবেন।যেটা ফ্রেন্ডলী ম্যাচ খেলে আসলে হবে না।তবে ফ্রী থাকার চাইতে ফ্রেন্ডলী ম্যাচ খেলা ভালো এতে করে এক্টিভ থাকবেন।
৮) নিয়মিত অনুশীলন:-
একটা কথা আছে "প্র্যাকটিস মেইকস্ আ ম্যান পারফেক্ট"। তাই অনুশীলনের কোনো বিকল্প নাই।আমরা দেখি না যে কিছু কিছু প্লেয়ার কিছু শট অনায়াসেই মারে।স্লটে পেলেই যেনো ব্যাট অটোমেটিক চলে যায়।এটা হয় বিকজ খেলতে খেলতে অভ্যস্ত বা তারা এটা অনুশীলন করে রপ্ত করেছে।যেখানে একটা মাসল্ মেমোরী ক্রিয়েট হয়ে গেছে।ঐ বল ঐ জায়গায় আসলে অটোমেটিক ব্যাট চলে যাবে।উদাহারণ স্বরুপ বললে, ধরেন হঠাৎ আপনাকে কেউ ডাক দিলো।দিয়েই একটা ঢিল মারলো,আপনি তাকানোর সাথে সাথেই দেখলেন কিছু একটা আপনার দিকে আসবে।দেখবেন আপনার হাত অথবা শরীর এটা থেকে বাঁচতে অটোমেটিক রিয়েক্ট করবে। কারণ আপনি এটা আপনার গায়ে লাগলে আপনি আঘাত পাবেন বিধায় আপনি এটা থেকে বাঁচতে আপনি অটোমেটিক রিয়েক্ট করবেন।
সুতরাং একি জিনিস যখন আপনি বার বার ট্রাই করবেন ঐটা আপনার ব্রেইন ঐভাবেই নিবে।খেয়াল করলে দেখবেন যে স্টেডিয়ামে অনেকে নেট প্র্যাকটিস করে খুব কাছে থেকে কেউ আস্তে বল মারে আর সে ব্যাট দিয়ে ড্রিল করে।প্রথমে আমিও ভাবতাম এতে কি লাভ? কিন্তু এটাতে অনেক লাভ। এগুলো রেগুলার করলে মাসল মেমোরী ক্রিয়েট হয় বল যেদিকে যাবে আপনার ব্যাটো পরবর্তীতে সেদিকেই যাবে।আর বোলার হলে বাড়িতে নির্দিষ্ট একটা জায়গা সিলেক্ট করে বল করে যাবেন।গুড লেন্থে কিছু একটা দিয়ে ঠিক ঐ জায়গায় বার বার বল করে গেলে দেখবেন ম্যাচে ও এর ফল পাবেন।সুতরাং প্র্যাকটিসের কোনো বিকল্প নাই।
৯) ফিটনেস ঠিক রাখা,পরিমিত ঘুম আর রুটিন মাফিক খাওয়া-দাওয়া:-
শুধু একজন ক্রিকেটারই না।সকলের জন্যই সু-স্বাস্থ্য জরুরী।আর খেলোয়ার হলে তো মাস্ট।টেপ টেনিসে ফিটনেস লাগে না কথাটা আসলে ভুল।আমি যদি আমার কথাই বলি,আমি এখন খেলতে পারিনা আমার ফিটনেসের জন্য।দুইটা সিঙ্গেল নিলেই হাঁপিয়ে যায়।অনিয়মিত পাশাপাশি খেলাধুলা থেকে একটু দূরে থাকলেই ফিটনেস সমস্যা দেখা দেয় তাই অবশ্যই নিজেকে ফিট রাখতে হবে।রেগুলার যারা খেলাধুলায় আছেন তারা তো ফিট।খেলাধুলার পাশাপাশি প্রতিদিন ৩০ মিনিট হাঁটলে,১৫/২০ মিনিট ফুটবল খেললেও ফিট থাকবেন।এছাড়া ইউটিউভে ক্রিকেটারদের ফিটনেস ঠিক রাখার অনেক ধরণের ব্যায়াম সার্চ করলেই পাবেন।উচিৎ প্রতিদিন ৩০ মিনিট শরীরচর্চা করা।
রাত জেগে পোস্টটা লিখলাম।হয়তো অগুচালো। আশাকরি মাঝে মধ্যে এমন পোস্ট পাবেন।আশাকরি ফলো করলে রেজাল্ট পাবেন।আমি এতো ভালো প্লেয়ার বা বিশেষজ্ঞ কেউ না।জাস্ট আমার কিছু ভাবনা শেয়ার করলাম।
Rintu Debnath
Owner & CEO
AR Entertainment
Cricket Corner
Football Hub
Customized Jersey
Badminton